
বাংলাদেশ পুলিশ সম্প্রতি পরিবর্তিত ইউনিফর্ম আবার বদলাতে আগ্রহী হয়েছে, যদিও আগের পরিবর্তনে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন গত এক সপ্তাহে দুবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বৈঠক করে নতুন ইউনিফর্মের পাঁচটি রঙের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। তারা চায়, সরকার এসব প্রস্তাব থেকে একটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করুক।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বারবার পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া ঠিক হবে না। বিষয়টি ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম তৈরির জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৬ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নোমান গ্রুপ প্রায় ৫১ কোটি টাকার এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপ প্রায় ২৫ কোটি টাকার কাজ পায়।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরে ‘আয়রন’ বা লোহা রঙের ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা হয়। একই বছরের নভেম্বরে নতুন পোশাক পরে মাঠে নামতে শুরু করে পুলিশ সদস্যরা, যদিও এখনো সব ইউনিট তা পায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, দেশে প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্য রয়েছে এবং প্রত্যেককে বছরে পাঁচ সেট করে পোশাক দেওয়া হয়।
তবে নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে মাঠপর্যায়ের অনেক পুলিশ সদস্যের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তারা পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার কারণে অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন করে খাকি, নেভি ব্লু, আকাশি এবং আগের নীল রঙসহ পাঁচ ধরনের ইউনিফর্মের নমুনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। সংগঠনটির মতে, আগের সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের মতামত এবং বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান ইউনিফর্মে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয় এবং ঐতিহ্যবাহী কোনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এক বছরের মধ্যে আবার পোশাক পরিবর্তন করলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন পোশাকের বদলে পুলিশের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে সরবরাহ করা কাপড় ব্যবহারযোগ্য থাকবে এবং শুধুমাত্র রং পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে এতে অতিরিক্ত ব্যয় কতটা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সার্বিকভাবে, নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।