প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 10, 2026 ইং
থাই রিসোর্টে ২১ বাংলাদেশিসহ ২২ জন আটক, মালয়েশিয়ায় পাচারের সন্দেহ

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশের চানা জেলায় একটি সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে ২১ বাংলাদেশি নাগরিক ও মিয়ানমারের এক নারীসহ মোট ২২ জনকে আটক করেছে থাই পুলিশ। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।
থাই ইমিগ্রেশন ও পর্যটন পুলিশ যৌথভাবে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই রিসোর্টে অভিযান চালায় বলে জানায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্র। ঘটনাটি জানিয়েছে Bangkok Post।
পুলিশ জানায়, আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ওই রিসোর্টে অবৈধ অভিবাসীদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে রিসোর্টটি বন্ধ মনে হলেও ভেতর থেকে বিদেশি ভাষায় কথা শোনা যাচ্ছিল। পরে একটি ত্রিপল-ঢাকা সরু পথ ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করলে কর্মকর্তারা একটি অন্ধকার কক্ষে গাদাগাদি অবস্থায় থাকা ২২ জন বিদেশিকে খুঁজে পান। সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন মিয়ানমারের নারী। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটকদের উদ্ধারের পর তারা অভিযোগ করেন, রিসোর্টে রাখার সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশের অভিযানে রিসোর্টের মালিকের কক্ষ থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যেগুলো আটক ব্যক্তিদের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময় রিসোর্টের ৬৬ বছর বয়সী মালিক কৃতিদেতকেও আটক করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তারা প্রত্যেকে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে দালালচক্রকে প্রায় সাত লাখ টাকা করে দিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশ থেকে বিমানে কম্বোডিয়া যান এবং পরে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের সা কায়েও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ওই রিসোর্টে এনে রাখা হয়। বুধবার ভোরে একটি ঢাকা পিকআপ ভ্যানে করে তাদের সেখানে আনা হয়েছিল বলেও তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মিয়ানমারের ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত স্বামীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং তার যাত্রার ব্যয় স্বামী বহন করেছেন।
থাই কর্তৃপক্ষ রিসোর্ট মালিক কৃতিদেতের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তার অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে আটক বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল বহু বছর ধরেই মালয়েশিয়াগামী মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন রুটের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্তঃদেশীয় পাচারচক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে