প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 10, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ বিতর্ক: ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ইরানের পাল্টা অবস্থানে বাড়ছে উত্তেজনা

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে ইরানের ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এই মাশুল আদায় অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি সত্যিই এ ধরনের ফি আদায় করে থাকে, তবে তা বন্ধ করা উচিত। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তার এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের জলসীমা দিয়ে যাওয়া প্রতিটি ট্যাঙ্কারে থাকা তেলের প্রতি ব্যারেলে এক ডলার করে মাশুল দাবি করছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি এখনো ‘উন্মুক্ত’। তবে মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন, ইরানের আশঙ্কায় অনেক জাহাজ ওই পথে চলাচল এড়িয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে প্রণালিটি এখন রাজনৈতিক শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শত শত তেলবাহী ট্যাঙ্কার বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় আটকে আছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসেবে প্রায় ২০ হাজার নাবিক কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী শনিবার Islamabad-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন এই উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
এক লিখিত বার্তায় খামেনি বলেন, “ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে নিজেদের অধিকার থেকে পিছিয়ে আসবে না।” একই সঙ্গে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক অবাধ নৌ-চলাচলের নীতির পরিপন্থি। ইতোমধ্যে এই সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তাদের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় ২৫ শতাংশই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে