
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মাসের বাজার সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুক্রবার রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, তাঁতিবাজার ও নারিন্দা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস ও সবজিসহ প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বাজারে দাম বাড়ছে।
মাছের বাজারে তেলাপিয়া, কৈ ও পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চিংড়ি ৮০০ টাকা, আর শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই, মৃগেল ও কাতল মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।
মুরগির বাজারেও ঈদের পর দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি হলেও সোনালি মুরগি ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের দামও বেড়েছে। রমজানে যেখানে ডজনপ্রতি ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা গেছে ভোজ্য তেলের বাজারে। পাঁচ লিটারের বোতল কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও ছোট আকারের বোতল প্রায় অনুপস্থিত। খোলা সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে বাজারে তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তেল নিতে হলে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনে বিক্রি করছেন।
নারিন্দা বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ বলেন, “দোকানে তেল না থাকলে ক্রেতারা অন্য পণ্যও কিনতে চান না। এতে বিক্রি কমে যাচ্ছে, আবার বেশি দামে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
সবজির বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রায় সব ধরনের সবজি ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়স, শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা, করলা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু ২৫ টাকা এবং পেঁপে ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা জলিল বলেন, “মৌসুম শেষ হওয়ায় অনেক সবজির সরবরাহ কমেছে। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
ক্রেতারা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি তাদের জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি করছে। ক্রেতা আজিম মিয়া বলেন, “তেলের দাম বাড়ার প্রভাব অন্য পণ্যের ওপর পড়ছে। এতে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।