
উদয়ের পথে
হামের কারণে শিশুমৃত্যু, টিকার ঘাটতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরব হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বুধবার স্পিকার হাফিজ আহমদ-এর সভাপতিত্বে অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিসে তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, টিকা পরিবহনকারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া, জনবল সংকট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৩৫টি জেলায় টিকাদান কর্মসূচিতে জনবল ঘাটতি রয়েছে এবং কোভিড-পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া ফাঁক ব্যবহার করছে হামের ভাইরাস।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে হামের পুনরুত্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, একটি এলাকায় হামের সংক্রমণ রোধে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে দুই ডোজ টিকা দিতে হয়।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ভ্যাকসিনের ঘাটতি ছিল, তবে সরকার তা সামাল দিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে টিকার মজুদ ‘স্থিতিশীল’ এবং জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এটি ধাপে ধাপে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি কোভিডকালীন তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করে নতুন টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।
টিকা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বকেয়া বেতনের বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঢাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে বর্ণনার বিষয়ে আংশিক দ্বিমত জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো ঢাকা নয়, বরং দেশের ১৮ জেলার কিছু উপজেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে তিনি জানান, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গাজীপুর, যশোর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, পাবনা, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে টিকার শক্ত মজুদ গড়ে তোলার কাজ চলছে।