প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং
বিটিআরসিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

সোমবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। নিয়োগসংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে রাজস্ব খাতের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের পাঠানো একটি অডিট পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নিয়োগে নির্ধারিত চাকরিবিধি, নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং বিধি উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাচারীভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তথ্য বলছে, অডিট অধিদপ্তর একাধিকবার ব্যাখ্যা চাইলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর গত বছরের ১৬ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ একটি চিঠিতে ওই নিয়োগের বিষয়ে দায়–দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ ব্যাখ্যা দিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানায়। তবে সূত্র জানায়, ওই নির্দেশনারও কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টেলিযোগাযোগ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের দাখিল করা শ্বেতপত্রেও ২৯ জন জুনিয়র পরামর্শককে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
শ্বেতপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আবারও চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে অভিযোগ উঠছে, তাতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ৩ নভেম্বর এ বিষয়ে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) গঠন করা হয় এবং দ্রুত সভা ডেকে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এই পরিস্থিতিতে বিটিআরসিতে কর্মরত ছয়জন উপপরিচালক—সঞ্জিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবীব, মো. জাকির হোসেন খান, এস এম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির—গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠান। ওই নোটিশে অভিযোগ করা হয়, অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নীতিমালা ও সুশাসনের প্রশ্ন তুলছে।
পরে আইনি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠছে, অডিট প্রতিবেদনে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পরও কেন দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টেলিযোগাযোগ খাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে