প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 24, 2026 ইং
আয়ের উৎস নেই, তবু ৫ তলা বাড়ি: ওয়াসা গাড়ি চালক তাজুল ইসলাম

উদয়ের পথে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম ওয়াসার বরখাস্তকৃত গাড়ি চালক মো. তাজুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২২ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন চট্টগ্রাম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে খাইরুন্নেছা বেগমের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্ধকোটির বেশি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৬ মার্চ একই কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল বাদী হয়ে তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দুদক কর্মকর্তা মো. এমরান হোসেন দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। যদিও মামলার এজাহারে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছিল ২৮ লাখ ৯২ হাজার ৬৫৯ টাকা।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, মো. তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ সালে মাত্র দুই হাজার টাকা বেতনে চট্টগ্রাম ওয়াসায় চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে তার চাকরিজীবন শুরু হয়।
দুদকের চার্জশিট অনুযায়ী, তাজুল ইসলামের স্ত্রীর নামে চট্টগ্রাম মহানগরীর রৌফাবাদ এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। ২০০২ সালে জমি ক্রয়ের পর প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হলেও সম্পদ বিবরণীতে মাত্র ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ের তথ্য দেখানো হয়।
চার্জশিটে আরও বলা হয়, খাইরুন্নেছা বেগমের নামে পোল্ট্রি খামার ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হলেও তদন্তে তার কোনো ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তিনি একজন গৃহিণী এবং তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই।
দুদকের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, সব মিলিয়ে খাইরুন্নেছা বেগমের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা স্বামী মো. তাজুল ইসলামের অবৈধ আয়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ-বাণিজ্য, তদবির, পদোন্নতি ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে এসব অর্থ দিয়ে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে