প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 12, 2025 ইং
বিদ্যুৎ খাতে বিপুল লোকসান: পিডিবির হিসাব বলছে, সরকারের ভর্তুকি ৩৮ হাজার কোটি টাকা

উদয়ের পথে
গত অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ৫৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে, তথ্য বলছে পিডিবি সূত্রে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে, বাকি ১৭ হাজার কোটি টাকার লোকসানের বোঝা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঘাড়ে পড়ে। এর আগের বছরও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছিল।
সূত্র জানায়, বুধবার পিডিবির বোর্ড সভায় বিদ্যুৎ খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়। তবে পিডিবির অর্থ সদস্য অঞ্জনা খান মজলিস জানিয়েছেন, “বোর্ডে অনুমোদন হলেও তা প্রকাশের পরিস্থিতি এখন হয়নি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে হিসাব প্রকাশ করা হবে।
তথ্য বলছে, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) এবং সরকারি কেন্দ্র থেকে ক্রয়কৃত বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় প্রতি ইউনিট প্রায় ১০–১২ টাকা হলেও বিক্রিমূল্য ছিল মাত্র ৬.৯৯ টাকা। এই বিশাল ফারাকের কারণে পিডিবির লোকসান হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।
অভিযোগ উঠছে, আইপিপিগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, আর সরকারি-বেসরকারি কেন্দ্র মিলিয়ে উৎপাদিত বেশি দামের বিদ্যুতের লোকসান অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হয়। তবে সরকারি কেন্দ্রের নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য কোনো ভর্তুকি পাওয়া যায় না।
পিডিবির হিসাব অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪৮.৫২ শতাংশ, ফার্নেস অয়েলে ১১.৮৩ শতাংশ, ডিজেলে ০.৪৬ শতাংশ, বায়ু বিদ্যুৎ ০.০৭ শতাংশ, সোলার ৯ শতাংশ এবং জলবিদ্যুৎ ০.৮৬ শতাংশ উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। তথ্য বলছে, গ্যাস সরবরাহ কমায় পিডিবি ফার্নেস অয়েল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, কেন এই বিশাল লোকসানের পরও খাতের অরাজক অবস্থা বন্ধ হয়নি এবং গ্রাহককে অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় এখনও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
সূত্র জানায়, গত মাসে গঠিত জাতীয় কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিক, আমলা ও রাজনীতিবিদদের যোগসাজশে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এই কারণেই গ্রাহককে বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে