শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন হত্যায় দুই লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি ব্যবহারের অভিযোগ
রাজধানীর অপরাধচক্রে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রনি নামের এক ব্যক্তির নাম। অভিযোগ উঠেছে, দুই লাখ টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করে তিনি প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে হত্যা করিয়েছেন।
তথ্য বলছে, রনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রনি একসময় মুদিদোকানদার ছিলেন। পরে ডিশ–ব্যবসা দখল, চাঁদাবাজি ও হুমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দ্রুত অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত হন। ইমনের মাধ্যমে রাজধানীর হাজারীবাগ ও মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।
সূত্র জানায়, ইমন কারাগারে থাকলেও বাইরে তার নেটওয়ার্ক রনির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অপরাধচক্রের কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তও রনির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতো।
ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল ইমনের। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রনি নেতৃত্ব দেন। তাঁর নির্দেশে ফারুক হোসেন ফয়সাল ও রবিন আহম্মদ পিয়াস গুলি ছোড়েন। হত্যার সময় রনি ঘটনাস্থলে থেকেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও ডিবির দাবি।
গ্রেপ্তার করা ফারুক, রবিন, রুবেল, শামীম ও ইউসুফকে নরসিংদীর ভেলানগর এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়। তথ্য বলছে, হত্যার পর তাঁরা ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ব্যর্থ হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত আটক হন।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত অস্ত্র রনির নির্দেশে প্রথমে রুবেলের কাছে এবং পরে পেশায় দর্জি ইউসুফের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে অস্ত্র, গুলি, একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রনি এই টাকাই ‘পারিশ্রমিক’ হিসেবে দুই শুটারের মধ্যে ভাগ করে দেন বলে ডিবির দাবি।
ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মামুন হত্যাকাণ্ড মূলত পুরোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা। জামিনে বের হওয়ার পর মামুন আবার এলাকা দখল ও প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এতে রনিকে পাশ কাটিয়ে এগোতে চান তিনি। সেই পটপরিপ্রেক্ষিতেই ইমনের সঙ্গে পরামর্শ করে মামুনকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন রনি।
তথ্য বলছে, এ ঘটনার পর রনি এখন ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন প্রভাবশালী চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে। তবে তিনি এখনো পলাতক। তাঁকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মামুন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে গতকাল মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ডে নিতে আবেদন করে ডিবি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র প্রত্যেক আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দমনে বিশেষ নজরদারি চলছে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।